সোমবার, ০৩ মে ২০২১, ০৫:০৭ অপরাহ্ন

মেয়েকে নিয়ে ‘নরকের এক রাত’

আমার একমাত্র কন্যা ‘রোদসী’, ঢাকার লক্ষ্মীবাজার সেন্ট ফ্রান্সিস স্কুলের প্লে গ্রুপের ছাত্রী। ১৪ নভেম্বর রাতে দুধ এবং কোক কাছাকাছি সময়ে খাওয়ার পর হঠাৎ পেট ব্যথা, বমি, হালকা জ্বর। রাতটা কাটল এভাবেই। পরদিন একটু ভালো। scourge থাকায় সাপোজিটর দিয়ে পায়খানা করানো হলো কিছুটা। ধারণা হলো গ্যাসফর্ম হয়ে এমন হয়েছে। সারা দিন মেয়ে ঘুমিয়ে কাটল এক প্রকার। সন্ধ্যার পর আবার শুরু হলো পেটে ব্যথা। ছিলাম শাহবাগে, খবর পেয়ে ছুটলাম টিকাটুলি সালাউদ্দিন স্পেশালাইজড হাসপাতালে, গিন্নিকেও সেখানে আসতে বললাম। ইমার্জেন্সিতে ডাক্তার দেখে বলল অ্যাপেন্ডিসাইটিস। জরুরি আল্ট্রাসনো করাতে হবে। শুক্রবার এবং রাত তখন নয়টা ত্রিশ। তাদের ওখানে হবে না, টাইম ওভার। পরামর্শ দিলেন যেখান থেকে পারেন টেস্ট করান। ইটস আর্জেন্ট।

কয়েক জায়গায় খোঁজ নিলাম, বন্ধ হয়ে গেছে। ছুটলাম ঢাকা মেডিকেলে। টিকিট কেটে ইমার্জেন্সির দোতলায় ঢুকতেই মনে হলো নরকে চলে এসেছি! চারপাশে ফ্লোরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে শুধু মানুষ আর মানুষ! দুর্গন্ধ! ময়লা! বিশৃঙ্খল চলাচল পেরিয়ে বেশ খানিক হেঁটে আট নম্বর কেবিনে পৌঁছলাম! ইন্টার্ন ডাক্তার দুজন প্রায় শ খানেক রোগীর কেবিন সামলাতে হিমশিম! রোদসীকে কোন রকম দেখে একই মন্তব্য করে পাঠালেন সার্জারির কেবিন পাঁচ নম্বরে। সেখানে একজন সম্ভবত ডাক্তার আর একজন ইন্টার্ন মেয়ে সামলাচ্ছেন দুই’শ রোগীর কেবিন। এছাড়াও আমাদের মতো ক্রমে আগত রোগীর চাপ তো আছেই! এখানেও ডাক্তার একই কথা বললেন এবং আলট্রা সাউন্ড সহ রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা দিয়ে বললেন দ্রুত পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে এখানে এসে দেখাতে। তখন ইন্টার্ন মেয়েটি বললেন পারলে বাইরে কোথাও থেকে পরীক্ষা করাতে, এখানে অনেক ভিড়, তাই দেরি হতে পারে; কিন্তু দেরি করা যাবে না। মডার্নে যেতে বললেন।

নিউজটি শেয়ার করুন


      এ জাতীয় আরো খবর..