সোমবার, ০৩ মে ২০২১, ০৫:০৮ অপরাহ্ন

দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে:উন্নয়নের বিকল্প নেই

গত বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যাত্রাবাড়ী-মাওয়া-পাচ্চর-ভাঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের প্রথম বিশ্বমানের এক্সপ্রেসওয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বলার অপেক্ষা রাখে না, এর ফলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা ঘটল। উদ্বোধনকালে এটিকে জাতির জন্য ‘মুজিববর্ষের উপহার’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এক্সপ্রেসওয়ে ধরে যানবাহনগুলো কোনো ধরনের বাধা বা ট্রাফিক সিগন্যাল ছাড়াই সরাসরি গন্তব্যে যেতে পারবে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিকমানের আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ের দুটি অংশ ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর সঙ্গে সংযুক্ত হবে, যা বর্তমানে নির্মাণাধীন।

জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেয়ার পর তা নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে শেষ করা জরুরি হলেও প্রায় ক্ষেত্রেই ছন্দপতন ঘটতে দেখা যায়। তবে দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যৌথভাবে ২০১৬ সালে এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করে এবং নির্ধারিত সময়সীমার তিন মাস আগেই কাজ সম্পন্ন করে।

আমরা চাই, এ প্রকল্পের অভিজ্ঞতা থেকে জনগুরুত্বপূর্ণ এবং দেশের অর্থনীতির জন্য ফলদায়ক অন্য প্রকল্পগুলোও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার পদক্ষেপ নেয়া হবে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে সরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি।

আশার কথা, সড়ক নয়; সরকার একই সঙ্গে নৌ, বিমান ও রেলপথের উন্নয়নেও বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। তবে গৃহীত অনেক প্রকল্পেই নানারকম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে দেখা যাচ্ছে, যা রোধ করা জরুরি।

বস্তুত, প্রকল্প প্রণয়নের সময় অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলা হলেও বাস্তবায়ন পর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন ও এর গুণগত মান ধরে রাখতে না পারায় দেশবাসী তার কোনো সুফল পায় না।

এ জন্য প্রকৃতপক্ষে প্রকল্প কতটা সুন্দর- এটি দেখার আগে দেখা উচিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে কি না এবং তা সঠিক সময়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব কি না! আশঙ্কার বিষয়, অনেক প্রকল্প প্রণয়নই করা হয় দুর্নীতি ও অর্থ লোপাটের কথা মাথায় রেখে।

কে কত বেশি কমিশন দেবে; তার ভিত্তিতে কার্যাদেশ বণ্টন করা হয়। উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে সরকারের উচিত দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ করে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো যাতে সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে ব্যবস্থা নেয়া।

উচ্চ প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার পূর্বশর্ত হচ্ছে অবকাঠামোগত উন্নয়ন। কিন্তু অপর্যাপ্ত বরাদ্দ, কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ না হওয়া, অপরিকল্পিত বিনিয়োগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, সুশাসনের অভাব ও সমন্বয়হীনতার কারণে পিছিয়ে পড়ছে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন।

বিশ্বের নব্য উন্নত ও ধনী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে প্রযুক্তিভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও আমদানি-রফতানিতে গতিশীলতা সৃষ্টি করা গেলে কাক্সিক্ষত সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। দেশে উন্নয়নের মন্থরগতি বা স্থবিরতার কারণগুলোর অন্যতম হচ্ছে অবকাঠামোগত অনুন্নয়ন।

দেশের প্রথম বিশ্বমানের এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের ধারাবাহিকতায় বিপুল জনগোষ্ঠীর দক্ষতা কাজে লাগানো সম্ভব হলে আমাদের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বপ্ন বাস্তবে রূপলাভ করবে, এ বিষয়ে দ্বিমত প্রকাশের অবকাশ নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন


      এ জাতীয় আরো খবর..